দেশমাতা জনগণের হৃদয়ের স্পন্দন বেগম খালেদা জিয়া ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর চিরতরে হারিয়ে গেলেন!
গত ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত তার মৃত লাাশটা যতক্ষণ এই ধরাতে ছিল ততক্ষণ পর্যন্ত মনে হয়নি আমাদের মা,আমাদের পাশে নেই, মাঝে নেই, দেশে নেই!
দাফনের পর এ কেমন অনুভুতি লাগছে যেন কিছুই নেই! নিজের মাকে হারিয়ে একবার এতিম হয়ে গিয়েছিলাম আজ দেশের মা, জনগণের মাকে হারিয়ে একেবারেই শূন্য হয়ে গেলাম।
এই মহান নেত্রীর সাথে আমার জীবনে কিছু স্মৃতি ছিল তা খুব একটা প্রকাশ না করলেও আজকে যেন সব প্রকাশ শুধু নয় আরও আরও স্মৃতি কেন রাখিনি, যা দেখে দেখে নিজেকে নিজেই শান্তনা দিতাম তাই মনে হচ্ছে। আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমার এই মায়ের সাথে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের একাংশের নেতৃত্ব দিয়ে ১৯৮৩ সালে ঢাকার প্রথম কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মায়ের সাথে কথপোকথনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করি।
তৎকালীন সময়ে স্টীল মিল বাজার এলাকায় একাধিকবার, কাঠগড় এলাকায়, পতেঙ্গা বিমান বন্দরে, দক্ষিণ পতেঙ্গায়, ইপিজেড মোড়ে, লালদীঘির একাংশে, ঢাকায় মায়ের বাসভবনে ও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে, সালাউদ্দিন কাদের ভাইয়ের নেতৃত্বে মায়ের পাশে বসা,নুর মোহাম্মদ ভাইয়ের যোগদান অনুষ্ঠানে পাশে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেয়া এবং ৯০ দশকে চট্টগ্রাম – ৮ এলাকার প্রার্থী নিয়ে সাংগঠনিক বিষয়ে কথা বলা, ৯১ সালে কাটগড় মোড়ে মায়ের হাত দিয়ে ত্রাণ বিতরণ করা,এবং কাটগড় মোড়ে নির্বাচনী সভা করা সহ অসংখ্য বার মহান এই নেত্রীর পাশে থেকে দলের কাজ করার সুযোগ পেয়ে তাঁকে কাছে থেকে জানার সুযোগ হলেও তা সংরক্ষণ না করা আজ আমাকে এতবেশী কষ্ট দিচ্ছে যা মনের ভাষায়ই প্রকাশ করতে পাচ্ছি না।
তখন তা লৌকিকতা মনে করলেও আজ হারিয়ে যাওয়া মায়ের স্মৃতি খুঁজতেই যেন মন দিশেহারা!
উহে মা আমার! গণতন্ত্রের মা আমার! এ কেমন অসহায় বোধ করছি!এত বেশি ভালোবাসা এত বেশী আবেগ সামলাবো কি দিয়ে! আমি কি উন্মাদ হয়ে যাচ্ছি! এ কি আমার দেশপ্রেম নাকি দলপ্রেম,নাকি মায়ের প্রতি সীমাহীন ভালোবাসা!
চোখের জল কেন থামেনা-লিখতে কেন জলভরা চোখ আড়ষ্ট হয়ে যায়! না, কোন কথার কথা না সত্যিই অনবরত শুধু চোখের জলই আসছে! বার বার লিখা থেমে যাচ্ছে ঝাপসা চোখের আড়ালে। প্রকাশ করতে পাচ্ছি না স্বীয় স্ত্রীর কাছেও।
এ কেমন অনুভুতি আমার! কেনই বা এমন লাগছে। তারেক জিয়া যখন স্বাভাবিক নিয়মে মায়ের লাশের পাশে দাঁড়িয়ে অন্য দশজনের মত বলেন” মরহুমা খালেদা জিয়া আমার মা তাঁর পরিবারের বড় ছেলে হিসাবে আমি জানাতে চাই উনার কাছে কারও কোন পাওনা থাকলে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন তা শোধ করে দেব,আর মা কে আপনারা সবাই মাফ করে দেবেন আমার মায়ের পক্ষে আমি ক্ষমা চাচ্ছি! ”
কি চমৎকার এক ছেলে রেখে গেলেন!
দেশের এমন কঠিন দুঃসময়ে কোটি প্রাণের প্রেরণা মহাকালের সমাপ্তি ঘটবো তা কখনও ভাবিনি।
মমতাময়ী মা গনতন্ত্রের মা দেশপ্রেমিক এই মহান নেত্রীর জন্য সবাই প্রাণখুলে মহান আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করুন তাঁকে( খালেদা খানম পুতুল)যেন জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন আমিন।