Home Blog Page 82

সিটি করপোরেশনে ২০০ লোক নিয়োগ

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন জনবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। অস্থায়ীভাবে দৈনিক মজুরিভিত্তিক অদক্ষ শ্রমিক (পরিচ্ছন্নতাকর্মী) হিসেবে মোট ২০০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

আগ্রহী প্রার্থীরা নির্দিষ্ট আবেদন ফরমে আবেদন করতে পারবেন।

প্রার্থীদের লিখিত আবেদন ফরম-সচিব, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, গুলশান সেন্টার পয়েন্ট, প্লট ২৩-২৬, রোড-৪৬, গুলশান-২, ঢাকা এই ঠিকানায় পাঠাতে হবে। আবেদনের শেষ তারিখ ২২ জুন।

খামের উপর অবশ্যই ‘শ্রমিক (পরিচ্ছন্নতাকর্মী)’ উল্লেখ করে দিতে হবে। এছাড়া রয়েছে আরও বেশকিছু শর্ত।

আনোয়ারায় শিয়ালের কামড়ে ২০ জন আহত

আনোয়ারায় শনিবার (২৯ মে) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের কৈখাইন গ্রামের নয়া রাস্তার মাথা এলাকায় শিয়ালের কামড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে।

আহতরা আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে জুবাইদা নামের আড়াই বছর বয়সী এক শিশুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহত আবুল হাশেম (৫০) বলেন, ‘সন্ধ্যায় একটি শিয়াল কৈখাইন গ্রামের সৈয়দ বাড়িতে ঢুকে সামনে যাকে পেয়েছে তাকে কামড় দিয়েছে। এতে নারী–পুরুষ ও শিশু মিলে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক এইচ এম মুনতাসির জাহিন বলেন, ‘শিয়ালের কামড়ে আহতদের মধ্যে একজন শিশুকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।

ভয়াবহ মাদক এলএসডিসহ আটক ৫

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে রোববার (৩০ মে) দুপুরে পাঁচজনকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ভয়াবহ মাদক লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাই-ইথ্যালামাইডসহ (এলএসডি) তাদের আটক করা হয় বলে জানান ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আ. আহাদ।

তিনি আরো জানান, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এলএসডিসহ এই পাঁচজনকে আটক করেছে খিলগাঁও থানা পুলিশ।

দেশে করোনায় নতুন শনাক্ত ১৩৫৮,মৃত্যু ৩১ জনের

শুক্রবার (২৯ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাবিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৫১১ জন।
নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৫৮ জন।
দেশে মোট করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা হলো ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৩৪৩ জনে।

বায়েজিদে শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টায় যুবক আটক

জনতার চট্টগ্রাম ডেক্স

নগরের বায়েজিদ থানার বাংলাবাজার এলাকায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে শনিবার (২৯ মে) দুপুরে সাদ্দাম (২৮) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। বায়েজিদ বোস্তামী থানার বার্মা কলোনি থেকে তাকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বলেন,দুপুরে যখন শিশুটি অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। এ সময় সাদ্দাম তাকে ‘সাজিয়ে দেয়ার’ কথা বলে বাসায় নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। শিশুটি চিৎকার করলে সাদ্দাম পালিয়ে যায়। ওই শিশুর বাবা ও প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশের একটি টহল দল সাদ্দামকে আটক করে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা থানায় ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করেছেন।

আটককৃত সাদ্দামের বাড়ি খাগড়াছড়ির পানছড়িতে, সে বায়েজিদ থানার বাংলাবাজার এলাকায় থাকতো।

তরুণ চিকিৎসকদের দাবি এখন থেকে বিদেশিরাই আমাদের দেশে হার্টের চিকিৎসা নিতে আসবে

জনতার চট্টগ্রাম ডেক্স

এখন আর বিদেশ নয়, বিদেশিরাই আমাদের দেশে হার্টের চিকিৎসা নিতে আসবে বলে জানিয়েছেন একদল তরুণ চিকিৎসক।
গত মঙ্গলবার (২৫ মে) জাতীয় হৃদরোগ ইনিস্টিটিউটে হাসিনা বেগম নামে (৩০) এক তরুণীর দেহে কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আশ্রাফুল হক সিয়ামের তত্ত্বাবধানে এই সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। ৪-৫ ঘণ্টার এই সফল অস্ত্রোপচারে তাঁকে সহায়তা করেন আরও কয়েকজন তরুণ চিকিৎসক।
দেশে প্রথমবারের মতো এমআইসিএস পদ্ধতিতে হার্টের ডাবল ভাল্ব প্রতিস্থাপন করলেন একদল তরুণ চিকিৎসক।

চিকিৎসকদের মতে, ডাবল ভাল্ব অপারেশন হার্টের অত্যন্ত জটিল অপারেশন। এমআইএস পদ্ধতির মাধ্যমে মাত্র ২-৩ ইঞ্চি ফুটো করে ভাল্ব প্রতিস্থাপন সারাবিশ্বেই অত্যন্ত বিরল।

অধ্যাপক ডা. সিয়াম বলেন, সারাবিশ্বে হাতেগোনা কয়েকটি হাসপাতালে এ ধরনের আধুনিক পদ্ধতিতে অপারেশন হয়ে থাকে। আজ আমরা সেই মাইলস্টোনে পা দিয়ে দেশের নাম উজ্জ্বল করতে পেরেছি। এখন আর বিদেশ নয়, বিদেশিরাই আমাদের দেশে হার্টের চিকিৎসা নিতে আসবে।

কার্ডিয়াক সার্জনস সোসাইটি অফ বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ফারুক আহমেদ বলেন, দেশে এ ধরনের প্রথম সফল অপারেশনের জন্য ডা. সিয়ামকে অভিনন্দন জানায়। হার্টের চিকিৎসায় এটি একটি যুগান্তকারী মাইলফলক ।

জাতীয় হৃদরোগ ইনিস্টিটিউটের পরিচালক মীর জামালউদ্দিন বলেন, এটা অত্যন্ত গর্বের বিষয় আমরা এ ধরনের কসমেটিক সার্জারি শুরু করতে পেরেছি। এই পদ্ধতিতে অপারেশনের সুবিধা হলো রোগীর রক্তক্ষরণ ও ব্যথা অনুভব কম হয় এবং তাড়াতাডি সুস্থ হয়ে বাড়ি যেতে পারে।

অপারেশনে অন্যান্যর মধ্যে ছিলেন অধ্যাপক ডা. শাহনাজ, সহকারী অধ্যাপক ডা. সালাম, সহকারী অধ্যাপক ডা. রোমেনা রহমান ডা. আসিফ আহসান চৌধুরী, ডা. ইমরান, ডা. মন্জুর, ডা. ওয়াহিদা, ডা. সায়েম, ডা. রুবাইয়াত ও ডা. সৌরভ।

ফারুককে অটোরিকশা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সম্প্রতি অর্থাভাবে নোয়াখালীর কবিরহাট সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ফারুক এখন রিকশা চালান গণমাধ্যমে এমন সংবাদ আসে।
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা দরিদ্র আনোয়ার হোসেন ফারুককে ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশা কিনে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।কবিরহাট উপজেলার পদুয়া গ্রামের মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন ফারুক।
ফারুকের ছোট ভাই পারভেজ মোশারফ জেলা ছাত্রলীগের সদস্য।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এম এম ইমরুল কায়েস জানান, শনিবার (২৯ মে) প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক এ অটোরিকশাটি ছাত্রলীগের সাবেক ওই নেতার কাছে হস্তান্তর করেন।

নগরের বিভিন্ন এলাকা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত

নগরীর ইপিজেড থানাধীন ৩৯ নং ওয়ার্ডের নায়ারহাট নেভি হল রোডে বৃষ্টি না হলেও জোয়ারের পানিতে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

২৫ মে মঙ্গলবার সকালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জোয়ারের পানিতে ডুবে গেছে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি। সড়কটিতে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে গার্মেন্টসকর্মীসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ চলাচলের রাস্তা হলেও নিয়মিত খাল খনন, পানি নিস্কাশনের কোন ব্যবস্থা ও স্লুইস গেইট না থাকায় প্রতি বছর এমন দুর্ভোগ ও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নয়ারহাট এলাকার প্রায় সাড়ে তিন হাজার পরিবারকে। ময়লা আবর্জনাযুক্ত হাটু পরিমাণ জোয়ারের পানি বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে ঢুকে সয়লাব ।

জোয়ারের পানির কারণে এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। বিশুদ্ধ পানির অভাবে নানান পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এলাকাবাসী।

নদী ও খালের পানি ধারণক্ষমতা কমে গেছে ভরাট হওয়ায়। কর্ণফুলী নদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং ও স্লুইস গেইট স্থাপনের দাবি জানান এলাকাবাসী। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সমাজ সেবক মোঃ আলাউদ্দিন ফারুক জানান, প্রতিবছর জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় নেভি হল রোড। এভাবে জোয়ারের পানিতে বাড়তে থাকলে রাতে আমারা কি করবো তা ভাবছি। জলাবদ্ধতা নিরসনে নগর পিতা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও স্থানীয় ৩৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিল জিয়াউল হক সুমনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

খোঁজ নিয়ে জানাযায় আগ্রাবাদ, ইপিজেড, বন্দর থানা ও পতেঙ্গা এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ নির্মাঞ্চল জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে

বিবাহ বিচ্ছেদ, সামাজিক চিন্তা চেতনা ও বাস্তবতা

সম্প্রতি সময়ের বহুল আলোচিত বিষয়ের একটি বিশ্বের বিখ্যাত ধনী দম্পতি বিল গেটস ও মেলিণ্ডার বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনাটি। টুইটারে তাদের ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের বিবাহ বিচ্ছেদের ঘোষণা পাওয়ার পর পরই সামাজিক এবং সংবাদ মাধ্যম গুলিতে ইতিবাচক ও নেতিবাচক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া আমরা দেখেছি। এটা শুধু তাদের ক্ষেত্রেই নয়, যেকোন সেলিব্রেটি বা আশেপাশের কারো বিচ্ছেদের গুঞ্জন উঠেলেই নানা মন্তব্য আমরা দেখি। কিন্তু খুব বিস্ময়ের কিংবা হতাশার ব্যাপার হলো–সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলিতে আমাদের দেশের মানুষের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াগুলো আর সবকিছু ট্রল পর্যায়ে নিয়ে মানুষের সিরিয়াস আবেগের জায়গা গুলোতে আঘাত করার প্রবণতা যখন দেখি। এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে আমরা বর্তমান সময়ে এতটাই মজে আছি যে, এর নেতিবাচক দিকগুলোতে সবচেয়ে বেশি আসক্ত হয়ে দিন দিন নিজেরা অসামাজিক আর পরিবার বিমুখ হয়ে উঠছি। আমরা খুব সহজেই ভার্চুয়াল ছবি পোস্ট দেখে মানুষকে বিচার করি, কখনো কারো মনের অবস্থা বা মানসিক যন্ত্রণা না বুঝেই মজা করতে গিয়ে হয়ত অনেক বেশি আঘাত করে ফেলছি। কারো সম্পর্কগুলোর গভীরতা, সমস্যা না বুঝেই একটা মন্তব্য করে ফেলি।

এই যে ‘বিবাহ-বিচ্ছেদ’ এই শব্দ জোড়া আমাদের সামনে আসার আগে আমরা বিবাহিত জীবন নিয়ে একটু আলোচনায় যায়। যার যার ধর্ম অনুযায়ী আমরা সকলেই জানি বিধাতা কর্তৃক আমাদের জন্য জন্ম, মৃত্যু আর বিয়ে এই তিনটি বিষয় নির্ধারিত। যদিও ‘জন্মিলে মরিতে হইবে’ এই চরম সত্যের সাথে বিয়ের ফুলও সবার জীবনে ফুটবে এটার বাধ্যবাদকতা নেই। একটা পর্যায়ে এসে নারী পুরুষের জৈবিক চাহিদা পূরণ করতে আর নতুন একটা পরিবার গঠনের স্বপ্ন নিয়েই দুজন মানুষ সামাজিক প্রথা মেনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। হয়ত কেউ ভালোবেসে চেনা মানুষকেই আপন করে আবার কেউ সম্পূর্ণ অচেনা দুজন মানুষ সারাজীবন একসাথে থাকার প্রতিশ্রুতি নিয়েই নতুন জীবনের সূচনা করে। প্রতিটা মানুষই খুব শখ করে, আনন্দ নিয়ে নিজের স্বপ্নের মত করে খুব জাঁকজমকপূর্ণভাবেই জীবনের এই অধ্যায়টা শুরু করে। ভাঙ্গনের উদ্দেশ্য নিয়ে অবশ্যই না। কিন্তু সংসার বড় অদ্ভুত জায়গা, বড় কঠিন। সংসারে প্রবেশ করেই ধীরে ধীরে মানুষ সম্পর্কের গভীরতা বুঝে, কারো মানিয়ে নেয়ার আবার কারো মেনে না নেওয়ার গল্প শুরু হয়।

খ্যাতিমান লেখক বুদ্ধদেব সাহার উপন্যাসের বিয়ে বিষয়ক কিছু কিছু লাইন খুব মন ছুঁয়েছে- “বিয়ে! কি জটিল, কঠিন প্রয়োজনীয়, সাংঘাতিক মজবুত একটা ব্যাপার, আর কি ঠুনকো! দু-জন মানুষ সারাজীবন একসঙ্গে থাকবে–পাঁচ, দশ, পনের বছর নয়, সারাজীবন—এর চেয়ে ভয়ঙ্কর জুলুম আর অমানবিক আদর্শ আর কি হতে পারে? সন্তানের সাথে আজীবন থাকি না আমরা। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বন্ধু বেছে নিই, কিন্তু আশা কিংবা দাবি করা হয় যে, একবার যারা স্বামী-স্ত্রী হলো তারা চিরকাল তা–ই থাকবে! এই অস্বাভাবিক অবস্থাটা সহ্য করা যায় এটাকে ঈশ্বরের বিধান বলে মেনে নিলে, আমাদের ব্যাক্তিগত সুখ দুঃখ থেকে অনেক দূরে সরিয়ে রাখলে।” দুজন মানুষের যে দূরে কাছে ঘুরে বেড়াবার ব্যাক্তি স্বাধীনতা আছে, নিজেদের কিছু নিজস্বতা, স্বকীয়তা আছে তা সমাজ মানতে দিতেই চায় না।

এই সমাজে মনে করা হয় একবার বিয়ে হয়ে গেলো মানে আপনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত। সংসারটাকে আমরা যাবজ্জীবন কারাগার বানিয়ে ফেলেছি। আর কারাগার ভাবা হয় বলেই হয়ত আমরা অদ্ভুত অস্থিরতায় ভুগি, ছোট ছোট বিষয়গুলোকে জটিল বানিয়ে ফেলি। অথচ এই ছোট্ট জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত যদি খুব সহজভাবে নিয়ে নেতিবাচক সবকিছু দূরে ছুড়ে ফেলতে পারতাম তাহলে কত সুন্দর মসৃণ পথ হতো আমাদের। তবে পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজে আমরা নিজেদের যত আধুনিক ভাবি না কেন এখনো প্রতিটা দোষ নারীর দিকেই আঙ্গুল তুলে দেওয়া হয়। ঠিক এরকমভাবে বিচ্ছেদের কাহিনী আর নেতিবাচক দিক পুরুষেরও আছে, কিন্তু সমাজে তাদের বিষয়গুলোকে যতটা সহজে মেনে নেওয়া হয় একজন নারীর বিষয়টা কখনো সেভাবে নেওয়া হয় না। আর তাই যুগ যুগ ধরে কত মানসিক অশান্তি আর লৌকিকতার জন্য বা সমাজ কি বলবে এই ভেবে দুজন মানুষ না চাইলেও হয়ত অনেক প্রানহীন সম্পর্ক চালিয়ে যায় যেখানে কোন ভালোবাসার ছোঁয়া নেই, সম্মানের কোন বালাই নেই। কিন্তু যদি পারস্পরিক সম্মানবোধ নিয়ে একটু ইতিবাচকভাবে দুজন দুজনকে সহযোগিতা করে নিজেদের একটু বোঝার চেষ্টা করি তাহলে কত সুন্দর একটা পবিত্র সম্পর্ক আমরা ভালোবাসা দিয়ে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠত। কিন্তু এই আধুনিক যুগে আমরা এতটাই আত্মকেন্দ্রিক হয়েছি আমাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ কমে গেছে, সম্পর্ক ঠুনকো হয়ে গেছে, দিন দিন মূল্যবোধ হারিয়ে যাচ্ছে আর তাই বর্তমানে গবেষণায় দেখা গেছে শহরাঞ্চলে শিক্ষিতদের মাঝে ভয়ঙ্করভাবে মহামারী স্বরূপ বিবাহ বিচ্ছেদের হার বেড়েছে। এই বিষয়টি আসলে যতটা সামাজিক অস্থিরতার কারণ ততটা আবার নারীদের আত্মনির্ভরশীলতা আর স্বাধীনচেতা মনোভাবের প্রতিফলন।

গবেষণায় দেখা গেছে– বর্তমানে শিক্ষিতদের মধ্যে অনেক বেশি বিচ্ছেদের হার বেড়েছে। এর কারণ হিসেবে মূলত নারীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেতন আর আত্মনির্ভরশীল। আর বিশেষ যে কারণে বিচ্ছেদের হার বাড়ছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো– পারস্পরিক সম্মানবোধের অভাব, ভুল বুঝাবুঝি, টাকা পয়সা নিয়ে ঝামেলা, ইগো, পরোকিয়া, যৌতুক, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, শারীরিক সম্পর্কের দূরত্ব ইত্যাদি। এছাড়াও খুব ছোট ছোট ঝগড়া থেকেও নিজেদের সম্মান আর মানসিক শান্তির কথা ভেবে মানুষ এখন সমাজের ভয়ে অভিনয় করে সম্মান ঠিকিয়ে রাখার পক্ষপাতী না। যেমন পরিচিত একজনের বিবাহ বিচ্ছেদের কারণটি ছিল–আমি খুব তর্ক করে হতাশ হয়ে পড়েছি।

“আমাদের মাঝে খুব সহজ কিছু নিয়ে তর্ক হয় এবং এটি ছোট থেকে কেবল বিশাল হতে থাকে এবং এক সময় বিশাল মারামারিতে রূপান্তরিত হয় আর তাই আমাদের যুক্তিগুলি কখনই উন্নত হয় না কেবল সেগুলি আরও খারাপ হয় এবং মানসিক অশান্তির কারণ হয়।”

এই যে এই কারণটি সমাজের কাছে খুব নগণ্য মনে হলেও একজন দম্পতির কতটা মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে একটা সম্পর্ক ভাঙতে পারে তা শুধু ভুক্তভোগীরাই বুঝে। কিন্তু সমাজের একপক্ষ খুব সহজেই ইস্যু বানিয়ে নেতিবাচক কুৎসা রটাতে একটুও ভাবে না। কারো ভালো না লাগলে নিজেরা নিজেদের মত করে ভালো থাকতে চাওয়াটা তো অপরাধ না! যদি সমাজে একজন মেয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়, উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে চায় অনেক স্বামী মানতে নারাজ, তখন সমাজ সম্পর্কের দূরত্ব নিয়ে কথা বলতে আসে। কিন্তু একি চিত্র গ্রামাঞ্চলে বা বিদেশে অবস্থানরত স্বামীদের ক্ষেত্রে হলে কেউ প্রশ্ন তুলে না। যুগের পর যুগ কত মেয়ে প্রবাসী বিয়ে করে স্বামীর সংসার বুঝার আগেই দেশে একা জীবন পার করে সারাজীবন। এই অসম্পর্কগুলি কতটা অস্বাস্থ্যকর, মানসিক কষ্টদায়ক আর ইসলাম পরিপন্থি সে বিষয়ে কেউ কথা বলে না। অথচ এই বিষয়গুলো গ্রামাঞ্চলে অতটা গুরুত্ব না দিলেও শহরাঞ্চলে শিক্ষিত নারী পুরুষ উভয়ের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে, তারা নিজেদের ভালো থাকা নিয়ে ভাবছে, লোক দেখানো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা নিয়ে ভাবে না। যে যার মত ভালো থাকার অধিকার সবার আছে। অবশ্যই যে হাত সারাজীবন একসাথে চলবো বলে ধরা হয় সেটা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা সবার আন্তরিকভাবে সর্বোপরি চালিয়ে যাওয়া উচিত। কিন্তু যখন মতামত আর মানসিকতা মিলে না তখন অবশ্যই তাদের মতামতকে শ্রদ্ধা জানানো উচিত, কটুক্তি না করে। পৃথিবীর সবকিছুই পরিবর্তনশীল, মানুষও ব্যাতিক্রম নয়। মন বদলায়, ভালোবাসার রং বদলায়, নতুন করে নিজেদের মত করে মানুষের বাঁচার ইচ্ছা জাগে। তো তাদের ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে কুৎসা না রটিয়ে তাদের মত তাদের সম্মান জানিয়ে আমরা কি তাদের বাঁচতে দিতে পারি না?

নওশিন বিনতে কাশেম
ইংরেজি বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

কন্ঠ শিল্পী হিসেবে শামীম মাহমুদের আত্মপ্রকাশ

এস কে সাগর

ঈদ উপলক্ষে সব সময়ই আলাদা রকম ব্যস্ততা থাকে সংগীতাঙ্গনের মানুষদের। গানের সঙ্গে যুক্ত সবাই ঈদে নতুন গান উপহার দিতে চেষ্টা করেন শ্রোতাদের। ঈদুল ফিতরে শামীম মাহমুদের সময়ের দাবি নামক একটি ভিন্ন সুরের নতুন গান প্রকাশ করেছে ফোকাস মাল্টিমিডিয়া।

জানাযায়, ছোট বেলা থেকেই শিল্পী হবার স্বপ্ন দেখতেন শামীম মাহমুদ। গান পাগল ছেলেটি ২০০৫ সালে কন্ঠশিল্পী হওয়ার সুপ্ত ইচ্ছা নিয়ে ঢাকায় এসে কবি নজরুল কলেজে ভর্তি হবার পর তখনকার অডিও যুগের এ সোনালী সময়ে শিল্পী হবার স্বপ্ন পূরণ করতে প্রায়ই সময় পাটুয়াটুলিতে বিভিন্ন অডিও কোম্পানির সামনে ঘুরঘুর করতো । যদি সুযোগ মিলে। যখন সে বুঝতে পারেন লাখ টাকা খরচ করে ক্যাসেট বের করার মত নিন্মমধ্যবিত্বের জন্য বিলাসীতা ছাড়া কিছুই না।

সংগীতাঙ্গনে সুর সাধনায় নিজেকে যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে দিনের পর দিন না খেয়ে, শূন্য পকেটে জুতোর তলা ক্ষয় করে চেষ্টা চালিয়ে গেছেন সঙ্গীত জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে।

তারপর ২০১২ সালে গীতিকার হিসেবে মিউজিক ক্যারিয়ার শুরু। শামীম মাহমুদের কথা,সুর, সঙ্গীতায়োজনে নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে একের পর এক বাংলাদেশের অনেক জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পীদের মধ্যে আসিফ আকবর,ইমরান,এস আই টুটুল,ডলি সায়ন্তনি,পলাশ,রিজিয়া পারভীন, ইমন খান,প্রতিক হাসান,বেলাল খান, পুলক, ক্লোজ আপ ওয়ান রাজিব,অবন্তি সীথি,(ক্লোজ আপ ওয়ান ও সারেগামাপা) ,কর্নিয়া, কনা,নির্ঝর,রোমানা ইতি (সেরা কন্ঠ ও সারেগামাপা),সাবরিনা সাবা ও ফারাবিসহ নবীন- প্রবিন সহ শতাধিক শিল্পী গান উপহার দিয়েছেন দর্শক ও শ্রোতাদের।

তার নিজ প্রতিষ্ঠান স্টুডিও স্বপ্ন’র মাধ্যমে নতুন নতুন শিল্পীদের ভালো মানের মৌলিক বাংলা গান শ্রোতাদের উপহার দিবেন বলে তিনি জানান।

জীবন যুদ্ধে হার না মানা শামীম মাহমুদ আজকে একজন সফল গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক।