সম্পত্তির লোভ স্ত্রী-সন্তানের হাতে খুন হলেন হাসান

অনলাইন ডেস্ক

সম্পত্তির বন্টনের জন্যই স্ত্রী-সন্তানের হাতে খুন হলেন মো. হাসান (৬১)।

গত বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর পতেঙ্গা বোট ক্লাবের অদূরে ১২ নম্বর ঘাটে ট্রলিব্যাগে মানব দেহের খন্ডিতাংশ পাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটনে উঠে আসে এমন তথ্য-জানিয়েছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেনশন (পিবিআই)।

নিহত হাসানের বুকসহ শরীরের আরও কিছু অংশ উদ্ধার হলেও মাথা এখনও পাওয়া যায়নি। মাথার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে সংস্থাটি। হেফাজতে নিয়েছে নিহতের স্ত্রী ছেনোয়ারা বেগম ও বড় ছেলে মোস্তাফিজুর রহমানকে।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছোট ছেলে সফিকুর রহমান জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী আনারকলি পলাতক বলে জানিয়েছে পিবিআই।

নিহত মো. হাসান (৬১) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কাথারিয়া ইউনিয়নের বড়ইতলী গ্রামের সাহাব মিয়ার ছেলে। পিবিআইয়ের সংগ্রহ করা তার জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) অস্থায়ী ঠিকানা লেখা আছে, সিলেট সদরের সাধুর বাজার সংলগ্ন রেলওয়ে কলোনির জামাল মিয়ার গ্যারেজ।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো পুলিশ পরিদর্শক ইলিয়াস খান বলেন, মো. হাসানের মাথা ছাড়া শরীরের সম্পূর্ণ অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তার স্ত্রী ও বড় ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের পর পুরো বিষয়টি জানানো হবে।

পিবিআই চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিটের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) একেএম মহিউদ্দিন সেলিম জানান, ২৭ বছর ধরে নিরুদ্দেশ থাকা হাসান সম্প্রতি ঘরে ফিরেছেন। বাঁশাখালিতে তার কিছু পৈতৃক সম্পত্তি ছিল। সেই সব সম্পত্তি স্ত্রী-সন্তানের নামে দিতে বললে তিনি এতে অসমর্থ জানালে তাকে গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানার আকমল আলী সড়কের পকেট গেইট এলাকার জমির ভিলার ৭ নম্বর বাসায় খুন করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের দশদিন আগে চিকিৎসার নামে হাসানের স্ত্রী চট্টগ্রাম শহরে ছোট ছেলের বাসায় আসেন। হাসানকে খুন করা ওই বাসায় হাসানের ছোট ছেলে তার স্ত্রী-সন্তানসহ থাকেন। ঘটনার দিন বড় ছেলে মোস্তাফিজুরও সেই বাসায় যান।

সেদিন রাতে জায়গা-সম্পদের বিষয়ে হাসানের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়।

একপর্যায়ে উপস্থিত সকলে মিলে হাসানকে খুন করে। ছোট ছেলেই তার বাবার শরীরের টুকরোগুলো বিভিন্নস্থানে ফেলেন জানিয়েছেন পিবিআই কর্মকর্তা একেএম মহিউদ্দিন সেলিম।

Share article

Single Sidebar Ads1

সর্বশেষ খবর